
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কণিকান্দা প্রভাতী কিন্ডার গার্টেন স্কুলে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্কুল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী দুই পর্বে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে সকাল ৮টায় মশাল প্রজ্বলন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হলেও বিকাল ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা করা হয়। এরপর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সকল দর্শক ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
আলহাজ্ব মোতালেব হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান, আজিম নগর ইউনিয়ন ।
মোঃ ইমরান হাওলাদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি প্রবাসী (পুকুরপাড়)।
মোঃ ফকরুদ্দিন হাওলাদার, সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি।
হাশেম মাতুব্বর, সেক্রেটারি, ম্যানেজিং কমিটি।
তরিকুল ইসলাম (রুবেল) ও শিশু মিয়া প্রমুখ।
পুরো অনুষ্ঠানটি সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় ছিলেন
কণিকান্দা প্রভাতী কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পরিচালক,মোঃ ফরহাদ হাওলাদার। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (মোকারেজ)।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি সৌদি প্রবাসী মোঃ ইমরান হাওলাদার-এর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বক্তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ইমরান হাওলাদার এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা এবং অসহায়-গরিব মানুষের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে তার সহযোগিতার হাত এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার উদার অনুদান সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এই প্রশংসনীয় ভূমিকা এলাকার মানুষের হৃদয়ে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিম আক্তার। তিনি বলেন, “আমি আমার আব্বুর বড় মেয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আমার সাথে আমার ছোট বোন মুন আক্তারও আছে। আমরা দুই বোন মিলে আপনাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং এই স্কুলের উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করছি। যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।”
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে শিশুদের মেধা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন।