ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত দাতব্য প্রতিষ্ঠান হাজী আব্দুল করিম ও সামর্তবান ফাউন্ডেশন। পরিবারের সম্মানিত দাতাদের অর্থায়নে এবং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিল এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আব্দুর রশিদ মিয়া সাবেক মালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চান্দ্রা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খালেক মোল্ল্যা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মেজবাহ উদ্দিন। এছাড়াও এলাকার শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় যুবসমাজের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত অতিথিরা সমাজে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইফতারপূর্ব আলোচনায় বক্তারা ফাউন্ডেশনের বিগত বছরগুলোর মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, এই ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:
প্রান্তিক নারীদের মাঝে ১১৯টি সেলাই মেশিন বিতরণ।
অসহায়দের কর্মসংস্থানের জন্য অটোভ্যান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে মূলধন সহায়তা।
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান।
বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সহায়তা।
বন্যার্তদের ত্রাণ ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ।
ফাউন্ডেশনটির এই সাফল্যের মূলে রয়েছে দক্ষ ও ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব। এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাজী সামর্তবান সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৪ সালে ভাঙ্গা উপজেলা ও ফরিদপুর জেলার ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’এবং ঢাকা বিভাগের ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জন করেছেন।
এছাড়া প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, আমেরিকা প্রবাসী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নজরুল ইসলাম, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত ইমন, শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আজ সমাজ উন্নয়নের এক ‘উজ্জ্বল বাতিঘর’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।