ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দেওড়া কচিকাঁচা কিন্ডারগার্টেন প্রাঙ্গণে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দু’দিনব্যাপী‘বার্ষিক পিঠাপুলি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬। গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি (সোমবার ও মঙ্গলবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির সাথে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই বিশেষ আয়োজন। মেলায় ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, দুধ-চিতইসহ হরেক রকমের দেশীয় পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তাদের আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এই পিঠা উৎসব সেই প্রচেষ্টারই একটি সার্থক অংশ।
বিদ্যালয়ের সভাপতি, মোঃ লুৎফর রহমান ফকিরের সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ আক্তার-এর সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ রেজাউল মাতুব্বর, চেয়ারম্যান, কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদ।
মোঃ জাহাঙ্গীর বেপারী, সাধারণ সম্পাদক, কালামৃধা ইউনিয়ন বিএনপি।
মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, ফরিদপুর জেলা হাইস্কুল শিক্ষক কমিটি।
কামরুল মেম্বর, স্থানীয় ইউপি সদস্য।
মোঃ সালাম মাতব্বর, বিশিষ্ট সমাজসেবক।
মোঃ মোজাফফর, শিক্ষক, দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাবিজুল বেপারী, আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন সাবেক শিক্ষক ডাক্তার যাদব মন্ডল।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সবশেষে পিঠা মেলায় অংশগ্রহণকারী এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ভাঙ্গা উপজেলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই সুন্দর মুহূর্তগুলো সংবাদ আকারে তুলে ধরতে এবং প্রচার-প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এই অঞ্চলের প্রথিতযশা সাংবাদিক মোঃ সানোয়ার হোসেন।