ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিননগরে অবস্থিত ৩২নং জাঙ্গালপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬। গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি কোমলমতি শিশুদের পদচারণায় এক আনন্দমেলায় পরিণত হয়েছিল।
আধুনিকতা ও নান্দনিকতায় নতুন এক দৃষ্টান্ত
বিদ্যালয়টির এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল এর অভূতপূর্ব সৌন্দর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো: চাঁদ মিয়া (জসিম) সাহেবের নিরলস পরিশ্রম ও শৈল্পিক ভাবনায় বিদ্যালয়টি আজ এলাকার একটি ‘মডেল’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি কেবল একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, বরং একজন নিবেদিতপ্রাণ কারিগর হিসেবে নিজের মেধা ও সময় ব্যয় করে স্কুলটিকে সাজিয়েছেন এক টুকরো স্বপ্নপুরীর মতো।
প্রতিযোগিতা চলাকালীন প্রধান শিক্ষক মো: চাঁদ মিয়া (জসিম) তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন:
"আমার লক্ষ্য শুধু পাঠদান নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। বিদ্যালয়ের প্রতিটি রঙিন দেওয়াল যেন শিক্ষার্থীদের মনে সৃজনশীলতার স্বপ্ন বুনে দেয়। সিসি ক্যামেরা থেকে শুরু করে আধুনিক সকল সুবিধার সমন্বয়ে আমরা এই বিদ্যাপীঠকে একটি আদর্শ ডিজিটাল স্কুল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।"
বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেওয়াল যেন একেকটি রঙিন ক্যানভাস। জাতীয় প্রতীক, ফুল, পাখি ও বিভিন্ন শিক্ষণীয় চিত্র দিয়ে ভবনটি এমনভাবে সুসজ্জিত করা হয়েছে যা শিশুদের মনে আনন্দের খোরাক জোগায়। গ্রামীণ জনপদে সিসি (CCTV) ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর আধুনিক চিন্তাধারারই বহিঃপ্রকাশ।
দুই দিনব্যাপী উৎসবের চিত্র
গত ২৮ জানুয়ারি সকালে বর্ণিল উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রথম দিনে আয়োজিত খেলাগুলোর মধ্যে ছিল উচ্চ লম্ফ, দীর্ঘ লম্ফ, সুই-সুতা দৌড়, বিস্কুট দৌড়, হাঁড়িভাঙা এবং ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়। ২৯ জানুয়ারি বেলা ১২:০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশুদের মায়াবী কণ্ঠে গান ও নৃত্য উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন মো: বদরুদ্দোজা।
সুধীজন ও শিক্ষকবৃন্দের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের এই উন্নয়ন ও অভাবনীয় পরিবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেন আজিননগর ইউ.পি. চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: ইমরান হাওলাদার, মিজানুর রহমান (ভুলু খোন্দকার), কামরুল হাসান ফকির, সম্রাট আকবর (হীরা), হাবিবুল্লাহ ফকির এবং সম্রাট মাতুব্বর।
পুরো আয়োজনটি সফল করতে সহকারী শিক্ষক রেবা আক্তার, শাহানাজ আক্তার, মেরিনা আক্তার, সাবিনা আক্তার, পপি আক্তার এবং দপ্তরী কাম প্রহরী বিল্লাল তালুকদার নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা: ভাঙ্গা উপজেলার যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে বরাবরের মতোই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মো: সানোয়ার হোসেন।