
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক বিশাল যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ দলটির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
নুরুল্লাগঞ্জের স্থানীয় এক ময়দানে আয়োজিত এই সভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন **হাফেজ মোহাম্মদ নুরুল হুদা** এবং সঞ্চালনা করেন **মোহাম্মদ আরমান শরীফ**।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল নতুন যোগদানকারীদের বরণ করে নেওয়ার পর্বটি। তিন শতাধিক নেতাকর্মী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর পতাকাতলে শামিল হন, তখন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের **ফুলের তোড়া দিয়ে এবং গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।** তাকবির ধ্বনি আর ফুলের শুভেচ্ছায় সভাস্থলে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী **মাওলানা সারোয়ার হোসেন**। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও বিশিষ্ট পেশাজীবী নেতা **রিপন সিকদার** নতুন যোগদানকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন:
”আজকের পর থেকে কোনো অপশক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আপনারা কারো রক্তচক্ষু কিংবা হুমকিকে ভয় পাবেন না। কেউ অন্যায়ভাবে আপনাদের ভয়ভীতি দেখালে আমাদের জানাবেন—আমরা তার দাঁতভাঙা জবাব দেব।”
যোগদানকারী নেতাকর্মীদের পক্ষে **ক্বারী মো. সেলিম খান** ও **মাওলানা সিরাজ শেখ** বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর স্বচ্ছতা ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যই তাদের এই দলে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জামায়াতের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নবগত নেতাকর্মীদের মঙ্গল কামনা করে এক বিশেষ **মোনাজাত** পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে ঐতিহ্যবাহী **’খেজুরি’ (তবারক)** বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা জামায়াতের ক্রীড়া সম্পাদক ফরিদুল হুদা, ভাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন, ফিরোজ কবিরসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।