
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা ফিরে পেয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও স্থপতি মুজাহিদ বেগ। নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কমিশন তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছালে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বুধবার বিকেলে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় জমে। এ সময় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর মতে, মুজাহিদ বেগের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় স্থপতি মুজাহিদ বেগ বলেন, তিনি শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই প্রার্থিতা শুধু তার একার নয়, বরং এই জনপদের সাধারণ মানুষের প্রার্থিতা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুজাহিদ বেগ দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার প্রতিষ্ঠিত ‘আনোয়ারা মান্নান বেগ ফাউন্ডেশন’ ও ‘বাংলাদেশ আই ট্রাস্ট হসপিটাল’-এর মাধ্যমে ১৯৯০ সাল থেকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের চোখের ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করা হয়েছে।
গত আগস্ট মাসেও ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম ও পূর্ব সদরদী এবং সদরপুরের বাইশ রশি শিব সুন্দর একাডেমীসহ বিভিন্ন স্থানে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রায় ১৭০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও চশমা প্রদান করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার কারণে মুজাহিদ বেগের প্রার্থিতা পুনর্বহাল ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তার প্রতি কীভাবে আস্থা প্রকাশ করেন।