— উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুনের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম আরও গতিশীল
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে গম বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুন।
আজকের বিতরণ কার্যক্রমে কৃষকদের হাতে গম বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার হস্তান্তর করা হয়। এতে উপস্থিত কৃষকরা জানান—এ ধরনের সরকারি প্রণোদনা তাদের গম আবাদে বিশেষ সহায়তা করে, উৎপাদন খরচ কমায় এবং ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৪ সালের সফল বিতরণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের রবি মৌসুমে ভাঙ্গায় প্রায় ৬,৪৬০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছিল। প্রতিজন কৃষক পেয়েছিলেন ২০ কেজি গম বীজসহ ডিএপি ও এমওপি সার। ওই বছরের উদ্যোগ ভাঙ্গা উপজেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে এবং ক্ষুদ্র–প্রান্তিক কৃষকদের সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিত করে।
বিতরণ শেষে কয়েকজন কৃষক বলেন—“বীজ ও সারের দাম এখন অনেক বেশি। সরকার আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুন স্যারের মাধ্যমে যে গমের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়—তা আমাদের জন্য বড় উপকার হয়। নিজেরা কিনে জমিতে রপন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। এই সহায়তা না পেলে রবি মৌসুমে গম আবাদ করা অনেক কঠিন হয়ে যেত।”
আরেক কৃষক বলেন—
“স্যার, নিজে মাঠে গিয়ে দেখে, শুনে, যাচাই করে যাদের প্রয়োজন তাদের হাতে বীজ–সার তুলে দেন। এই বছর যাকে দেন, আগামী বছর আবার নতুন করে যাচাই করে অন্য কৃষকদেরও সুযোগ করে দেন। এতে সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরাও সুযোগ পান।”
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ভাঙ্গায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুন মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন। চারা বিতরণ, মাঠ পরিদর্শন, কৃষি সমস্যা সমাধান, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, মাটির বৈশিষ্ট্য যাচাই—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান—
“স্যার খুব আন্তরিক। তিনি আমাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করেন। তাঁর তদারকির কারণেই প্রণোদনা বিতরণ স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে হয়।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুন বলেন—
“কৃষকদের হাতে মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ডাটাবেজ অনুযায়ী যাচাই করে স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা প্রতিবছর প্রণোদনা বিতরণ করি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারের এই সহায়তা আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।”
সরকারি এই বীজ–সার বিতরণ কার্যক্রম ভাঙ্গার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। রবি মৌসুমে গম চাষে এবারও ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।